৭ টি গুণের উপস্থিতিই বলে দেবে আপনি কতটা ম্যাচিউর

আমারা অনেক সময় ভাবি আমি কি ম্যাচিউর। কখনো বুঝে উঠতে পারিনা   ঠিক কি করে বুঝবেন আপনি এখনো ম্যাচুউর নাকি ইম্যাচুউর?? নিচের লেখাটির সাথে মিলিয়ে নিন তো আপনাকে!

৭ টি গুণের উপস্থিতিই বলে দেবে আপনি কতটা ম্যাচিউর
Confident young woman wearing eyeglasses and standing with folded arms on gray wall. Portrait of smiling businesswoman with arms crossed isolated against grey background with copy space. Proud university student girl with specs looking at camera. Score:iStock

আমারা অনেক সময় ভাবি আমি কি ম্যাচিউর। কখনো বুঝে উঠতে পারিনা   ঠিক কি করে বুঝবেন আপনি এখনো ম্যাচুউর নাকি ইম্যাচুউর?? নিচের লেখাটির সাথে মিলিয়ে নিন তো আপনাকে!


১.অপ্রয়োজনীয় তর্কে জড়িয়ে পড়বেন না: একজন ম্যাচিউর মানুষ কখনো  অপ্রয়োজনীয় তর্কে জড়িত হন না।  অহেতুক তর্কে জড়িত হয়ে জিততে চায় না।  একজন বুদ্ধিমান মানুষ সবসময় নির্বোধ মানুষটাকে জিততে দেয়। একটা জিনিস লক্ষ্য করবেন, মনে করেন একজন কেউ ভুল কিছু নিয়ে তর্ক করছে, ভুলটাকে ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু সে ভুলটা মানতে নারাজ। সে সবসময় সেই ভুল ধারণা  নিয়ে  থাকতে চাই। একজন ম্যাচিউর মানুষ তার কাছ থেকে দূরে সরে গিয়ে বলবে আমি ভুল ছিলাম আপনি ঠিক ছিলেন।


২.কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: মনে করেন আপনার যদি কারোর দ্বারা সাহায্য প্রাপ্তি হয়। আপনি সহানুভূতিটা জানিয়ে তাকে যদি বলেন “আমার যে কি ভালো লাগল আপনি আমার জন্য এতটা করলেন!” কিংবা বললেন “আপনাকে কি বলে যে ধন্যবাদ জানাব!” তখন সেই ব্যক্তি আপনার প্রতি উদারতা বেড়ে যাবে এবং দ্বিতীয়বার সাহায্য করতে দ্বিধাবোধ করবে না।

এখন সবথেকে বড় কথা এটাই যে আপনি একজন কে সাহায্য করেছেন যে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। মনে হবে হ্যাঁ আমি সঠিক মানুষকে সাহায্য করেছি। একজন ম্যাচিওর মানুষের  মধ্যে এই গুনটা অন্যতম।

৩.ক্ষমা করা: ক্ষমা করা মহৎ গুণ এই বিষয়টি আমরা সবাই জানি এবং পড়েছি। একজন ম্যাচিউর মানুষ কখনই এটা বিবেচনা করে না যে কেন এই মানুষটি ভুল করেছেন, সব সময় বোঝার চেষ্টা করে সে কোন পরিস্থিতিতে ভুলটা করেছে।
আর অন্য দিকে লক্ষ্য করবেন ইম্যাচুউর মানুষ কখনই ভুল করলেও ভুলটা স্বীকার করতে চায় না এবং কাউকে কখনো ক্ষমা করতে চায়না। তার কেবল এই জ্ঞান উপলব্ধি হয় যে ভুল করছ সে ছোট হয়ে যায় এবং তাকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দেওয়ার কোন প্রশ্নই ওঠে না।

বুদ্ধিমান এবং মহৎ ব্যক্তির সবসময় উচিত ভুলকে ক্ষমা করে দেওয়া এবং দ্বিতীয়বার সুযোগ দেওয়া কারণ মানুষ ইচ্ছা করেই ভুল করে না সে কোনো না কোনো পরিস্থিতির শিকার হয়ে ভুল করে। 


৪.অন্যের জন্য চিন্তা করা:একজন ম্যাচিউর মানুষ সব সময় অন্যের জন্য চিন্তা করে, এটাই যে তার আশেপাশের পরিবেশের উপর তাঁর কাজের জন্য কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলবে কিনা‌ সে সকল দিক গুলো চিন্তা করে সে কাজ করে। একজন ম্যাচিউর মানুষ কখনো পাবলিক প্লেসে এমন কোনো অস্বাভাবিক কাজ করে না যেটা আশেপাশে মানুষের জন্য ক্ষতিকারক।অথবা একজন ইম্যাচুউর মানুষ সব সময় নিজের চিন্তা করে এবং সে এটাই মনে করে আমার জন্য এটাই সঠিক এবং সে সেই কাজটি করে। কিন্তু সে কখনই এটা বোঝেনা যে আমার জন্য যেটা ভালো সেটা হয়তো অন্যের জন্য খারাপ হতে পারে।


৫.পরিবর্তন ও উন্নয়ন: একজন ম্যাচিউর মানুষ জানে পুরাতন কোন কিছুকে পরিবর্তন করে নতুন কিছুকে উদ্ভাবনের মাধ্যমে উন্নয়ন করা সম্ভব।তাই সে পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকে। কিন্তু একজন ইম্যাচুউর মানুষ সবসময় পরিবর্তনে ভয় পায়।

৬.দায়িত্বশীল হোওয়া: ভরসা অর্জন করার  অন্যতম গুণ হচ্ছে দায়িত্ব। আপনি বিশ্বস্ততার সাথে একটা দায়িত্ব সম্পূর্ণ ভাবে সফল করবেন। মানুষের উপর আপনার একটা বিশ্বাস সৃষ্টি হবে। 

মনে করেন আপনার কোম্পানিতে দুই জন সিনিয়ার অফিসার আছে আপনি কোম্পানির সিইও দুইজন সিনিয়র অফিসার প্রমোশন পাওয়ার যোগ্য। আপনি কাকে প্রমোশন দিবেন?

নিশ্চয়ই যে দায়িত্বশীল তাকে প্রমোশন দিবেন।একজন ম্যাচুউর মানুষ  জানেন যে তাকে প্রমোশন দিলে সে দায়িত্ব এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কাজটি সম্পন্ন এবং সফল ভাবে করতে পারবে।আর একজন ইম্যাচুউর কাজের প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে তার কাজগুলোকে ফেলে রাখে। এই জন্য সে শতাধিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়ে যায়।


৭.গুরুত্ব দেওয়া: একজন ম্যাচিওর মানুষ সবসময়ই খুব ভালো একজন শ্রোতা হয়  এবং পরিবেশের পরিস্থিতি অনুযায়ী সবকিছু শোনেন জানেন তারপর সেই কাজের উপর গুরুত্ব দেন। কারন সে বোঝার চেষ্টা করে সামনের মানুষ কি বলছেন তা  জানার জন্য।

একজন ম্যাচিউর মানুষ জানেন যদি কোন কিছু গুরুত্ব পেতে হয় তাহলে সেটার উপর গুরুত্ব দিতে হয়। অন্যদিকে একজন ইম্যাচুউর মানুষ সব সময় তার নিজের কথাকে তুলে ধরতে চাই সবার মাঝে এবং সবাইকে শোনাতে চায় ।নিজেকে নিয়ে সব সময় সে ভাবতে থাকে। কিন্তু একজন মানুষ যে  সবসময়ই ঠিক হতে পারে না এটা একজন ম্যাচুউর মানুষ জানেন।

নিজের কাঠগড়ায় নিজেকে দাঁড় করানোও কিন্তু এক ধরনের ম্যাচুউরিটির লক্ষণ!